সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

kk.jpg

বিজ্ঞান জানা অজানা কম্পিউটারের ইতিহাস

১৬৪২ সালে ব্লেইজ পাস্কাল নামের এক ফরাসি যুবক যান্ত্রিক গণনা তৈরি করেন। এই যন্ত্রটির নাম ছিল প্যাস্কালেন। পরবর্তীতে তার সম্মানে কম্পিউটারে একটি আধুনিক প্রোগ্রামিং ভাষার (Programming Language) নাম দেয়া হয়েছে পাস্কাল (pascal)।

এ্যাবাকাস ( Abacus) নামক গণনা যন্ত্রকে কম্পিউটারের ইতিহাসে প্রথম যন্ত্র হিসেবে ধরা হয়। অর্থাৎ এ্যাবাকাস থেকেই কম্পিউটারের ইতিহাস শুরু। এ্যাবাকাস ছিল একটি ফ্রেমে সাজানো অনেকগুলো গুটির স্থান পরিবর্তন করে গণনা করার যন্ত্র। যদিও এ্যাবাকাস কবে আবিস্কৃত হয় সঠিকভাবে বলা যায় না। 

অনেকেই একে ব্যাবিলনীয়  সভ্যতার তৈরি বলে মনে করেন। খ্রিস্টপূর্ব ৪৫০/৫০০ অব্দে মিসর ও চীন দেশে গণনা যন্ত্র হিসেবে এ্যাবাকাস যন্ত্র তৈরি করা হয় বলে মনে করা হয়। বর্তমানে ইলেক্ট্রনিক প্রযুক্তির যুগান্তকারী বিকাশের যুগেও চীন, জাপান, রাশিয়া, ইত্যাদি দেশে বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে, এখনও এ্যাবাকাস যন্ত্র ব্যবহার করা হয়। ঐতিহ্যের স্বাক্ষর হিসেবে এখনও তারা কয়েক হাজার বছরের পুরনো এ্যাবাকাস যন্ত্রের প্রচলন অব্যাহত রেখেছে। 

সমাজের চাহিদা মেটাতে সক্ষম হলেও মধ্যযুগে এসে গণনা কাজের জন্য আরও উন্নততর যন্ত্রের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। জীবনের চাহিদা ও প্রয়োজন এর ভিত্তিতে তা এতটাই বদলে যায় যে, স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রের প্রয়োজন দেখা দেয়। গণনার কাজকে সহজতর করার লক্ষ্য সামনে রেখে স্কটিশ গনিতবিদ জন নেপিয়ার ১৬১৪ সালে এলগরিদম পদ্ধতির আবিস্কার করেন। এই পদ্ধতিকে নেপিয়ারের হাড়ও বলা হয়ে থাকে। 

এই পদ্ধতি ব্যবহার করে জার্মানির বিজ্ঞানী উইলিয়াম আউইরেট বৃত্তাকার স্লাইড রুল আবিস্কার করেন। সেটি ছিল ১৯২২ সাল। এর পরের বছর উইলিয়াম শিকার্ড নামক আরেকজন জার্মান একাধিক অংক বিশিষ্ট সংখ্যার গুন করার জন্য চাকা গিয়ার চালিত একটি যন্ত্র আবিস্কার করেন। 

১৬৪২ সালে ব্লেইজ পাস্কাল নামের এক ফরাসি যুবক যান্ত্রিক গণনা তৈরি করেন। এই যন্ত্রটির নাম ছিল প্যাস্কালেন। পরবর্তীতে তার সম্মানে কম্পিউটারে একটি আধুনিক প্রোগ্রামিং ভাষার  (Programming Language) নাম দেয়া হয়েছে পাস্কাল (pascal)। 

কম্পিউটার বর্তমান পর্যায়ে একবারে  আসেনি। একে অতিক্রম করতে হয়েছে অনেকগুলো ধাপ। বিভিন্ন গনিতবিদদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ১৯৫১ সালে আবিষ্কৃত হয় প্রথম ইলেক্ট্রনিক্স কম্পিউটার ইউনিভ্যাক (UNIVAC=Universal Automatic Computer)। প্যাস্কেলের পরে ১৬৭১ সালে জার্মান গণিতবিদ গডফ্রাইড ভন লিবনিজ (Gottfried Von Leibniz) প্যাস্কেলের যন্ত্রের ভিত্তিতে আরও উন্নত গণনা যন্ত্র তৈরি করেন। তার যন্ত্রের এর সাহায্যে যোগ।বিয়োগ, গুন, ভাগ এবং উৎপাদক নির্ণয় করা যেত। 

তিনিই প্রথম পুনঃপুন যোগের মাধ্যমে গুন করার পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন। ১৮০১ সালে অধ্যাপক চার্লস ব্যাবেজ (Charles Babbage) সর্বপ্রথম বর্তমান কম্পিউটারের স্বয়ংক্রিয় গণনা যন্ত্র তৈরির চেষ্টা করেন। তিনি তার প্রস্তাবিত যন্ত্রের নাম দেন এ্যানালিটিক্যাল ইঞ্জিন (Analytical Engine)। ১৮৩৩ সালে তার পরিকল্পিত এ্যানালিটিক্যাল ইঞ্জিন এর ধারণাকে আধুনিক কম্পিউটারের সূত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এজন্য চার্লস ব্যাবেজকে কম্পিউটারের জনক হিসেবেও অভিহিত করা হয়।


এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

Computer, History, old, ancient, counting, science, scientist