সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

cattle-fattening-bangladesh.jpg

এখনই সময়! শুরু হোক গরু মোটাতাজাকরণ প্রকল্প

আমরা স্বনির্ভর, স্বাধীন, সার্বভৌম জাতি। অন্যের দিকে হাত পেতে বসে থাকা আমাদের শিক্ষা নয়। তাই আমরা অবশ্যই পারব নিজেদের দেশীয় গরুতে দেশের চাহিদা মেটাতে। পাশাপাশি রপ্তানিরও সুযোগ হবে আমাদের।

ভারত থেকে গরু মহিষ আসা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আগামী রমজান ও কোরবানির ঈদে মাংসের সংকট দেখা দিবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ গোশত ব্যবসায়ী সমিতি ও ঢাকা মেট্রোপলিটন গোশত ব্যবসায়ী সমিতির নেতারা। এমন একটি সংবাদে আমার চোখ পড়ল। ব্যবসায়ীরা গরু আমদানিতে বিকল্প পথের সন্ধানের দাবিতে মানব বন্ধন করেছেন।

ইতোমধ্যে প্রতি কেজি মাংসের দাম ৪০০ টাকার উপরে চলে গেছে। আবার তাদের আশঙ্কা মাংস ব্যবসার সাথে জড়িত হাজার হাজার ব্যবসায়ী, কর্মচারী ও শ্রমিক বেকার হতে পারেন।

একথা ঠিক আমরা এতদিন ভারতীয় গরুর মাংসের উপর অনেকটা নির্ভরশীল ছিলাম। আবার প্রতি বছর কোরবানির ঈদে প্রচুর সংখ্যক ভারতীয় গরু আমাদের দেশে বিক্রি হত। যার দরুণ আমাদের দেশীয় খামারী বা কৃষকরা গরু, ছাগল বিক্রি করে তেমন লাভবান হত না। তাই আমাদের দেশে খামারী ও বেকার যুবকেরা গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগি ইত্যাদি পালনের উপর ততটা জোড় দিত না।

তবে যারা যথাযত পরামর্শ নিয়ে খামার করতো তারা কিন্তু সকলেই লাভবান হত। তাই এখন ভারতীয় গরু আসা বন্ধ থাকায় আমাদের লাভের পরিমাণটা আগের থেকে নি:সন্দেহে অনেক বৃদ্ধি পাবে।

সুতরাং আমাদের চিন্তিত হবার কারণ নেই। যথাযথ প্রচেষ্টা, পরিশ্রম, ভেটেরিনারিয়ান তথা প্রাণি চিকিৎকদের পরামর্শ ইত্যাদি মেনে চলে ছোট, বড় কিংবা মাঝারি যেকোন পর্যায়েই খামার করে আমরা প্রচুর লাভবান হতে পারি।

সাধারণত মাংস উৎপাদনের চিন্তা করলে যে বিষয়টি প্রথমে আমাদের মাথায় আসে তাহল গরু মোটা তাজাকরণ বা বীফ ফ্যাটেনিং। আজ এর উপর সামান্য প্রেরণামূলক লেখা লিখছি।

মোটাতাজাকরণ কি:
খুব সহজে বলতে হলে গরু মোটাতাজাকরণ বলতে বোঝায় অপুষ্ট, চিকনা বা বাড়ন্ত গরুকে বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে যথাযত ব্যবস্থাপনা ও সুষম খাদ্য প্রদান করে অধিক মাংস উৎপাদন করার প্রক্রিয়া। সাধারণত ৩-৫ টি গরু নিয়ে বছরের যে কোন সময়ে এ প্রকল্প হাতে নেয়া যেতে পারে। তবে কোরবানির ঈদের ২-৩ মাস আগে থেকে নেয়া ভাল।

প্রকল্পটি হাতে নেয়ার উদ্দেশ্য:
  • প্রথম কথা পরনির্ভরশীলতা কাঁটিয়ে ওঠা যাবে।
  • অল্প সময়ে অধিক মুনাফা অর্জন করা সম্ভব।
  • স্থানীয় বাজার থেকে গরু কিনেই করা যায়।
  • প্রাণিজ আমিষের ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব।
  • বেকার সমস্যা দূরীকরণ, চরাঞ্চল, পাহাড়ি এলাকায় খুব সহজে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব।
প্রাণি বাছাই:
মোটাতাজাকরণ প্রকল্পের সাফল্য নির্ভর করে সঠিক জাতের গরু বাছাইয়ের উপর। তাই গরু ক্রয়ের আগে নিম্নলিখিত বিষয়ের উপর গভীর দৃষ্টি রাখতে হবে।
  • দেশীয় উন্নত জাত কিংবা সংকর জাতের ষাঁড় গরু হতে হবে।
  • বাছুরে ঘাড় খাট ও কপাল চওড়া হবে।
  • শরীরের চামড়া টিলা-পাতলা, পাঁজরের হাড় চ্যাপ্টা হবে।
  • অসুস্থ গরু ক্রয় করা যাবে না। শুধুমাত্র খাবার কম দেয়ায় শুকিয়ে যাওয়া গরু কম দামে ক্রয় করতে হবে।
  • দেড়-দুই বছরের শীর্ণকায় গরু ক্রয় করতে হবে।
গরু বাছাইয়ের পর এদের কৃমিমুক্ত করণের ওষুধ খাওয়াতে হবে। গবাদি প্রাণির ভিটামিন ও মিনারেলের অভাব পূরণ, পুষ্টির অভাব পূরণ, বৃদ্ধিসাধন ও মাংসের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য ভিটামিন ও মিনারেল দিতে হবে। প্রচুর সবুজ ঘাস, দানাদার খাদ্যের মিশ্রণ প্রয়োগ করতে হবে।

এসব ক্ষেত্রে অবশ্যই আপনার এলাকার উপজেলা প্রাণি হাসপাতালে কর্মরত ইউএলও/ভিএস এর সাথে পরামর্শ করবেন। তাছাড়া বাসস্থান ও ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে আরো অধিক তথ্যের জন্য অবশ্যই তাদের সাথে যোগাযোগ রাখবেন।

একটি ভুল ধারণা:
আমরা সাধারণত কোরবানির ঈদের আগে গরু কিনতে গেলে মোটাতাজা গরু দেখলেই মনে করি ইঞ্জেকশন দিয়ে মোটা করা গরু। কিন্তু এটা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। এতক্ষণ যে সংক্ষিপ্ত ধারণা দেয়া হল তা প্রাকৃতিক উপায়েই মোটাতাজাকরণের উপায়।

ইঞ্জেকশনের গরু বলতে যা বোঝায় তা হল শীর্ণদেহী গরুগুলোকে স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ যেমন বেটামিথাসন, ডেক্সামিথাসন, ডেক্সাভেট সহ বিভিন্ন ওষুধ প্রয়োগ করা। স্থানীয় ভাষায় এগুলোকে পাম বড়ি বলে। এসব খাওয়ালে শরীর থেকে পানি বের হয়ে যেতে পারে না। ফলে মাংসে পানি জমে ও গরু মোটা হয়ে যায়। এসম্পর্কে বিস্তারিত লেখা পরবর্তীতে লিখব বলে আশা করছি।

লেখাটিতে গরু মোটাতাজাকরণ প্রকল্পের প্রাথমিক ধারণা দেয়া হল মাত্র। আশা রাখছি এ থেকে আপনি উদ্বুদ্ধ হবেন। আমরা স্বনির্ভর, স্বাধীন, সার্বভৌম জাতি। অন্যের দিকে হাত পেতে বসে থাকা আমাদের শিক্ষা নয়। তাই আমরা অবশ্যই পারব নিজেদের দেশীয় গরুতে দেশের চাহিদা মেটাতে। পাশাপাশি রপ্তানিরও সুযোগ হবে আমাদের।

-
লেখক: ইন্টার্ণশীপ শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়।

এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

employment, Young, Nutrition, Food, Eid, Domestic, Fattening, cattle