সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

hstu.jpg

উত্তরবঙ্গের গর্ব নয়ানাভিরাম ক্যাম্পাস হাবিপ্রবি

এই ক্যাম্পাসে আছে উত্তরবজ্ঞের সর্ববৃহত গেট। আছে খেলার মাঠ, আছে জিমনেশিয়াম। বর্তমানে নির্মানাধীন ডিজিটাল লাইব্রেরী। আছে তারবিহিন ইন্টারনেট সংযোগ, যা সবার জন্যে উম্মুক্ত।

বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গের অন্যতম জেলা দিনাজপুর। লিচুর ঘ্রানে, পাখির গানে মুখরিত এই জেলার পরিবেশ। আছে দেখার মত রামসাগর, মাতাসাগর, সুখসাগর, স্বপ্নপূরীর মত আরও অনেক নয়নাভিরাম দেখার জায়গা। শিক্ষা দীক্ষায় ও পিছিয়ে নেই এই জেলা, আছে মেডিকেল কলেজ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশব্বিদ্যালয়, আছে পলিটেকনিক সহ একাধিক সরকারি কলেজ।

১৯৮৮ সালে দেশকে কৃষিতে এগিয়ে নেয়ার প্রত্যয়ে পথচলা শুরু হয় তিন বছর মেয়াদি কৃষিতে ডিপ্লোমা কলেজের হাজী দানেশ কৃষি কলেজ নামে। অল্প সংখ্যক ছাত্র ছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষীকা, কিছু কর্মকর্তা–কর্মচারী নিয়ে শুরুহয় পথ চলা। পরে দেশের প্রানিসম্পদ এর উন্নতির লক্ষ নিয়ে প্রতিষ্টিত হয় দিনাজপুর সরকারি ভেটেরিনারী কলেজ। আস্তে আস্তে সময়ের প্রবাহে, প্রয়োজনের তাগিদে ছাত্র-ছাত্রীদের আন্দোলনের ফলে প্রতিষ্টিত হয় হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

২০০২ সালের ৮ এপ্রিল পথ চলা শুরু হয় এই মহান বিদ্যাপীঠের। এটি কৃষি কলেজ ও ভেটেরিনারী একসাথে মিশে গিয়ে কার্যক্রম শুরু করে। সময়ের সাথে সাথে বাড়তে থাকে এর নাম ও মান। দেশের সীমানা পেরিয়ে সুনাম ছড়িয়ে পড়ে বিদেশে। এখন এই ক্যাম্পাস দেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এর মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে এসে দাড়িয়েছে।

প্রতি বছর ৬টি অনুষদের আওতায় ১২টি বিষয়ের উপর ডিগ্রি দেয়ার জন্যে প্রায় ১৪০০ ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি করা হয়। এতে রয়েছে খামার, পর্যবেক্ষণ মাঠ, আছে নয়ানাভিরাম লিচু কাঠাল সহ অনেক ফুল ফলের গাছ-পালা। আরো রয়েছে নির্মাণাধীন ওয়াজেদ ভবন। এখন উল্লেখযোগ্য হারে ভর্তি হচ্ছে বিদেশী ছাত্র-ছাত্রী। প্রাকৃতিক পরিবেশ ও পড়াশুনার পরিবেশ সব মিলিয়ে সত্যিই নয়নাভিরাম এই ক্যাম্পাস মনোমুগ্ধকর।

এই ক্যাম্পাসে আছে উত্তরবজ্ঞের সর্ববৃহত গেট। আছে খেলার মাঠ, আছে জিমনেশিয়াম। বর্তমানে নির্মানাধীন ডিজিটাল লাইব্রেরী। আছে তারবিহিন ইন্টারনেট সংযোগ, যা সবার জন্যে উম্মুক্ত। সময়ের পরিক্রমায় এবার বেড়েছে আরও ছয়টি বিষয়। যুক্ত হয়েছে নতুন একটা অনুষদ যা বিজ্ঞান অনুষদ নামে প্রতিষ্ঠিত।

এই ক্যাম্পাস বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি হলেও পড়াশুনার সুযোগ পাচ্ছে মানবিক শাখার শিক্ষার্থীরাও। গনিত, পদার্থ, রসায়ন, অর্থনীতি , আর্কিটেকচার ও ইংরেজীসহ এখন ১৮টি বিষয়ে সম্মান ডিগ্রী প্রদান করা হয়। মাস্টার্স ও পিএইচডি প্রোগ্রামও চালু আছে। এ বছর সব মিলিয়ে প্রায় ১৯৫০ জন ছাত্র-ছাত্রী অধ্যয়নের সুযোগ পেয়েছে। এবার বিদেশী ছাত্র-ছাত্রীদের সংখ্যা উল্লেখ্যযোগ্য হারে বেড়েছে।

ক্যাম্পাসে লিচুর বাগান সত্যি দৃস্টিনন্দন। আছে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন। এবারের পহেলা বৈশাখে উত্তরবঙ্গের বৃহৎ ও দেশের তৃতীয় বৃহত্তম আল্পনা আকা হয় ক্যাম্পাসে। ক্যাম্পাসে ভর্তি হতে পেয়ে সবাই নিজেকে ধন্য মনে করছে। ভেটেরিনারি অনুষদের ৪র্থ বর্ষের ছাত্র মুনিরুজ্জামান বলেন, ডাক্তার হওয়ার ইচ্ছা পূরণ করেছে হাবিপ্রবি, আমি এর ছাত্র হতে পেরে গর্বিত।
এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

Dinajpur, Hazi, Dinesh, science, University, Northern, Bangladesh, education, Campus