সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

freelancing-inteligents-work.jpg

আবার সবিনয়ে বলতে চাই অনলাইন ফ্রিল্যান্সিং একটি বুদ্ধিদীপ্ত কাজ

আমার মতে শুধু বিদেশে লোক পাঠিয়ে বা গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রির মাধ্যমে এত কাজ দেয়া সম্ভব না। বাংলাদেশের এই শিক্ষিত বিপুল কর্মক্ষম জনগনের কাজের জন্য অনলাইন আউটসোর্সিং শিল্পের অনলাইন ফ্রিল্যান্স পেশাদার হিসাবে গড়ে তোলা অন্যতম ফলপ্রসু সমাধান হতে পারে।

বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্স আউটসোর্সিং ক্ষেত্রটি যে এগিয়ে যা‪চ্ছে সেটি তো আর নতুন করে বলার কিছু নেই, তবে এ ক্ষেত্রকে দ্রুত এগিয়ে নিতে সচেতনতা তৈরি অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের দেশে এখন লাখো বেকার চাকুরির আশায় ঘুরছে, কর্মের সুযোগ খুঁজে ফিরছে। এই বিপুল জনসাধারণকে কাজ দিতে না পারলে এই কর্মক্ষম লোকগুলো আমাদের জন্য সম্ভাবনা না হয়ে বরং বোঝা হবে। আমার মতে শুধু বিদেশে লোক পাঠিয়ে বা গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রির মাধ্যমে এত কাজ দেয়া সম্ভব না। বাংলাদেশের এই শিক্ষিত বিপুল কর্মক্ষম জনগনের কাজের জন্য অনলাইন আউটসোর্সিং শিল্পের অনলাইন ফ্রিল্যান্স পেশাদার হিসাবে গড়ে তোলা অন্যতম ফলপ্রসু সমাধান হতে পারে।

২০০৪ সালের ১৭ই মে উত্তরবঙ্গের জনপ্রিয় 'দৈনিক করতোয়া'য় 'সবিনয়ে বলতে চাই' শিরোনামের কলামের একটি অংশে লিখেছিলাম 'একটা ক্যারিয়ারের জন্য প্রথম প্রয়োজন নিজের আগ্রহ। একটি বিষয়ে আগ্রহী না হলে তাতে উন্নতি করা যায় না। তথ্য প্রযুক্তিতে পরিবর্তনগুলো বৈপ্লবিক এবং দ্রুত। কম্পিউটারে ক্যারিয়ার গড়তে হলে চিন্তাভাবনা, কাজে কর্মে গতিময়তা থাকতে হবে। আর থাকতে হবে একটু মেধা। কারণ যে ছাত্র/ছাত্রীটি সারাজীবন গণিতে ভয় পেয়ে এসেছে, তাকে যদি প্রোগ্রামিং কিংবা লজিক নিয়ে কাজ করতে হয় অথবা যে কোনো সৃষ্টিশীল কাজে আগ্রহী ছিল না, তাকে যদি দেওয়া হয় মাল্টিমিডিয়ায় তাহলে আর যাই হোক তার কাছে ফলাফল পাওয়ার ব্যাপারে একটু চিন্তা ভাবনা করতে হবে। আর একটা সমস্যা ইংরেজি।' 

২০০৪ সালের লেখা ২০১৫ সালেও পরিবর্তন হয় নাই। আমি ব্যাক্তিগত ভাবে ২০০৬ থেকে বন্ধুর উৎসাহে এই জগতে চলে আসি। সেই অভিজ্ঞতা থেকে বলতে চাই, প্রশিক্ষণ শুধু একজন মানুষকে রাস্তা দেখাবে, কিন্তু তারপর পথ চলতে হবে নিজেকেই। এই পথ চলতে চলতেই নিজেকে আরো তৈরী হতে হবে, কর্মদক্ষ হতে হবে। আমার পরিচিত অনেকেই আছেন যাঁরা আমার আগে, আমার সমসাময়িক বা আমার পরে এসেছেন ফ্রিল্যান্স আউটসোর্সিংকে পেশা হিসেবে নেবার জন্য কিন্তু কিছুদিন পর আবার সব ছেড়ে ছুড়ে চাকরী খুঁজতে বেরিয়েছেন। 

এ ধরণের ঘটনা দেখার পর হয়ত অনেকেই মনে করতে পারেন যে ফ্রিল্যান্সিং হয়ত পেশা হতে পারেনা। এটি অনেকে সাময়িকভাবে টিকে থাকার জন্য করে থাকেন। আর এ কারণেই শুনতে হয়, ফ্রিল্যান্স আউটসোর্সিং কি ক্যারিয়ার হতে পারে? আমার পাল্টা প্রশ্ন থাকে, কেন পারে না? অবশ্যই পারে! শুধু পারেই না, এটা ক্যারিয়ার হিসাবে সবার প্রথম পছন্দ হওয়া উচিত। যাঁরা ফ্রিল্যান্স আউটসোর্সিংকে পেশা হিসাবে নেওয়ার মানসিকতা নিয়ে এক্ষেত্রে এসেও পরে চাকুরির পিছনে ছুটেছেন তাঁদের ব্যাপারে আমার মতামত, চ্যালেঞ্জবিহীন জীবনের জন্যই তাঁদের পিছু হটা, প্রতিদিন ৯-৫ টার ধরা বাঁধা অফিস টাইম মেইনটেইন করার জন্যই তাঁদের চলে যাওয়া। 

অনেকেরই ধারণা আছে আপওয়ার্ক (পূর্বের ওডেস্ক), ফ্রিল্যান্স্যার ডট কম, ইলেন্স ছাড়া কোন কাজ করার ক্ষেত্র নাই। এই মার্কেটপ্লেস ছাড়াও নিজে কাজের পোর্টফোলিও করে সরাসরি বায়ারের সাথে যোগাযোগ করে কাজ করতে পারেন। তবে এক্ষেত্রে অনেকে কাজ করায়ে পেমেন্ট না দিয়েই চলে যেতে পারে। নতুনরা তাই মার্কেটপ্লেসগুলো চেষ্টা করতে পারেন। 

ফ্রিল্যান্স মার্কেটপ্লেসগুলোতে প্রায় তিন হাজারেরও বেশি ধরণের কাজ রয়েছে, পছন্দমতো যেকোনো একটিকে বেঁছে নিতে হবে। আর ক্যারিয়ারের ফিল্ড পছন্দের ক্ষেত্রে ঐ কাজের প্রতি আকর্ষন আছে কিনা, ক্যারিয়ার হিসেবে নিতে পারবেন কিনা, ভবিষ্যৎ কেমন হতে পারে এরকম সংশ্লিষ্ঠ কিছু বিষয় বিবেচনায় আনতে হবে। সিদ্ধান্তে আসার পর শুরু হবে মূল কাজ, স্কিল ডেভেলপমেন্ট। স্কিল ডেভেলপমেন্টের জন্য বিভিন্ন রিসোর্স থেকে শেখা যেতে পারে। 

যে বিষয়েই প্রশ্ন জাগে সেটা খুজে বের করার জন্য গুগলের সাহায্য নেয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। কারণ রিলায়েবল তথ্য পাবার জন্যে এর চেয়ে ভাল কোন রিসোর্স পাবেন না। তবে অনলাইন রিসোর্স গুলো স্টেপ বাই স্টেপ পাওয়া যায় না যার জন্যে নতুনরা তেমন একটা সুবিধা করতে পারে না। ভালোভাবে শিখতে হলে কিংবা দ্রুত সফল হতে হলে এই সেক্টরে যারা সফল তাদের গাইডলাইন নেওয়া প্রয়োজন। যেহেতু ব্যক্তিগতভাবে ফ্রিল্যান্সারা বেশি সময় দিতে পারেন না। তবে অনলাইনে বিষয়ভিত্তিক অসংখ্য ব্লগ, গ্রুপ, ফোরাম আছে। সেগুলো ফলো করার চেষ্টা করুন। আশা করি সেগুলো থেকে অনেক হেল্প পাবেন। 

আবার অনেক প্রতিষ্ঠান আছে যারা এই সব বিষয়ে ট্রেনিং দিচ্ছে। ভালো প্রতিষ্ঠান, অভিজ্ঞ ভালো প্রশিক্ষক দেখে প্রশিক্ষণ নিতে পারেন। কারণ অনভিজ্ঞদের কাছে থেকে আর যাই হোক অভিজ্ঞতা এবং দিক-নির্দেশনা পাওয়া যাবে না। ভালোভাবে কাজ শেখা হয়ে গেলে অনলাইন মার্কেটপ্লেস যেমন আপওয়ার্ক, ফ্রিল্যান্সার, ইল্যান্সসহ এই ধরণের জনপ্রিয় সাইটগুলোতে কাজ করতে পারেন। মনে রাখবেন, ফ্রিল্যান্সিং যতটা সহজ ভাবছেন ততটা সহজ নয়, এখানে আপনার দক্ষতার পাশাপাশি যোগ্যতাও প্রমাণ করতে হবে। আরও কয়েকটি গুন আপনার থাকতে হবে যেমন, পরিশ্রম করার মন মানসিকতা, আত্মবিশ্বাস, ধৈর্যশীলতা এবং সততা। তাহলেই ভালো করা সম্ভব এবং সর্বপরি আয় করা সম্ভব।

ইদানিং বাংলাদেশে খুব বেশি মাতামাতি হ‪চ্ছে আউটসোর্সিং নিয়ে। রাতারাতি বড়লোক হবার বাহারি ও রকমারি বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে মানুষকে আকৃষ্ট করার পায়তারায় মত্ত আছে একটি শ্রেণী। অনলাইনে আয় করার এইসব বাহারি বিজ্ঞাপনে আকৃষ্ট হয়ে প্রতারিতও হ‪চ্ছেন অনেকে। অনেকে আউটসোর্সিং ও অনলাইনে আয় বিষয় দুটোকে একসঙ্গে গুলিয়ে ফেলছেন। 

যখন কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান তাঁর নিজের বা প্রতিষ্ঠানের কাজ ইন-হাউজ না করে বাইরের কাউকে দিয়ে করিয়ে নেয় তখন সেটি হচ্ছে আউটসোর্সিং। আর ফ্রিল্যান্সিং হ‪চ্ছে যখন কোন ব্যক্তি কোন নির্দিষ্ঠ প্রতিষ্ঠানে কাজ না করে চুক্তিভিত্তিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করে থাকেন তখন তাঁকে ফ্রিল্যান্সার বলা হয়ে থাকে। বাংলাদেশে আউটসোর্সিং নিয়ে যে আলোচনা হচ্ছে সেটা মূলত ফ্রিল্যান্সারদের মাধ্যমে উন্নত বিশ্বের আউটসোর্সিং। ব্যবসায়িকভাবে আউটসোর্সিং সার্ভিসের শিল্পটা এখনো সেভাবে গড়ে ওঠেনি। এটা ঠিক আউটসোর্সিং সার্ভিস দেয় এমন অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে এবং দিন দিন এটি বাড়ছে।

তৃতীয় বিশ্বে আউটসোর্সিং করে উন্নত দেশের ব্যবসায়ীরা তাঁদের ব্যবসা পরিচালনার খরচ অনেক কমিয়ে নিচ্ছেন। কতটা কমছে তার একটা ধারনা দেই, আমেরিকায় একজন সার্চ ইঞ্জিনঅপটিমাইজেশন (এসইও) পেশাজীবির গড় বেতন ৫০ হাজার ডলার। কিন্তু বাংলাদেশী কোন সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজারকে এই কাজটি দেড় থেকে ২ হাজার ডলার দিয়ে করিয়ে নেয়া সম্ভব। এখন হিসাব করুন কি পরিমাণ খরচ কমে যা‪চ্ছে আউটসোর্সিংয়ের ফলে। 

আমাদের যদি কাজের ক্ষেত্রে দক্ষতা থাকে তবে উন্নত দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাজগুলো আমরা বাংলাদেশে বসেই করে দিতে পারি। সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজার হিসাবে আমরা যদি মাসে ২ হাজার ডলারও আয় করতে পারি, বাংলাদেশী টাকায় সেটি দাড়াবে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা! বাংলাদেশি কোন প্রতিষ্ঠানে কাজ করে কি এই পরিমাণ অর্থ কোনভাবেই আয় করা সম্ভব? আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পরবর্তী প্রজন্মের স্থপতি, ইঞ্জিনিয়ার ও ডাক্তার তৈরি হচ্ছে। তাঁরা চাইলেও আউটসোর্সিং শিল্পের একজন মুক্ত পেশাজীবি হতে পারেন। কিছু কিছু কাজ আছে যেগুলো আমাদের স্কুল বা কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরাও করতে পারে, যেমন ডাটা এন্ট্রির কাজ।

অনলাইন ফ্রিল্যান্সিং যতটা না কায়িক পরিশ্রমের কাজ তার চেয়ে বেশি বুদ্ধিদীপ্ত কাজ। আর আমাদের শিক্ষিত তরু
ণ-তর
ণীদেরকে যদি অনলাইন ফ্রিল্যান্স কাজগুলো একবার ভালোভাবে বুঝিয়ে দেয়া যায় তবে তাঁরা অনায়াসেই এ ক্ষেত্রে অনেক ভালো কিছু করতে পারবে। আমদানী নির্ভর আমাদের এ দেশে যত বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভের প্রয়োজন হয় তার একটি বড় অংশ আসে আমাদের প্রবাসী বাংলাদেশীদের কাছ থেকে। এবার আসা যাক আউটসোর্সিং শিল্পের দিকে। ২০১৫ সালে সর্বমোট ৪৪৩ বিলিয়ন ডলার সমপরিমাণের কাজ আউটসোর্স হবে। আমরা এর ১০% মার্কেট শেয়ার নিতে পারি তাহলে সেটা প্রায় ৪৫ বিলিয়ন ইউএস ডলার এবং ৫% মার্কেট শেয়ার নিলে সেটা হবে প্রায় ২৩ বিলিয়ন ইউএস ডলার যা কিনা আমাদের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের বর্তমানের সবচেয়ে বড় খাতকেও অতিক্রম করবে।

আমাদের দেশে প্রায় ৫০ শতাংশই মহিলা। আর এ মহিলাদের একটা বিশাল অংশ অর্থনীতিতে হিসাব হয় এমন কাজ খুব কমই করেন। তাঁরা বাসায় বসে যে কাজ করেন সেটা জিডিপিতে হিসাব হয় না। কিন্তু তাদের একটা বড় অংশ চাইলে বাসায় বসে প্রতিদিন ৩-৪ ঘন্টা সময় দিলে প্রতি ঘন্টা ১ ডলার (যদিও এখন ১ ডলার প্রতি ঘন্টা হয় না, কমপক্ষে ৩ ডলার প্রতি ঘন্টা। তার পরও আমি ১ ডলার করেই হিসাব করেছি।) হিসাবে প্রতিদিন কমপক্ষে ৩-৪ ডলারও ফ্রিল্যান্সিং করে আয় করতে পারেন। মোট কর্মক্ষম লোকের সংখ্যা যদি ৭ কোটি হয় তাহলে নারী আছে ৩.৫ কোটি। এর মধ্যে শিক্ষিত তরুণী এবং মহিলা যদি অর্ধ কোটিও হয় এবং তাঁদেরকে ফ্রিল্যান্সার হিসাবে গড়ে তোলা সম্ভব হয় তবে প্রতিদিন ১.৫ কোটি ডলার আয় আসবে এ ক্ষেত্র থেকে। বছরে এ আয়ের পরিমাণ দাড়াবে ৫০০ কোটি ডলারে। 

শুধু আশার আলো নয়, বাংলাদেশ যে এগিয়ে আছে তার একটা পরিসংখ্যান আপনাদের কাছে তুলে ধরছি, আপওয়ার্ক-ইল্যান্স এর মে ২০১৫ এ তাদের রিপোর্টে বলছে তাদের মার্কেটপ্লেসে যে ফ্রিল্যান্সারা কাজ কাজ করে আয় করছে তাদের মধ্যে র্শীষ ১০টা দেশ হচ্ছে: আমেরিকা, ফিলিপাইন, রাশিয়া, বাংলাদেশ, ইংল্যান্ড, রোমানিয়া, ভারত, ইউক্রেন, পাকিস্থান এবং কানাডা। পরিসংখ্যানটা নিয়ে চিন্তা করুন এবং গর্ববোধ করুন যে আমরা ৪র্থ স্থানে আছি কোন কোন দেশকে পেছনে রেখে।

আমাদের দেশের ফ্রিল্যান্স আউটসোর্সিং সেক্টরের একটি বড় সমস্যা হচ্ছে ইংরেজি না জানা। এক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের একটি জরিপে দেখা গেছে, দেশের তরু
ণেরা আউটসোর্সিংয়ে পিছিয়ে থাকার পেছনে ইংরেজি দুর্বলতা অনেকটা দায়ী। আউটসোর্সিংয়ের ক্ষেত্রে ইংরেজি অনেক গুর
ত্বপূর্ণ। যেহেতু বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করতে হয় সে জন্য ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা থাকা প্রয়োজন। নতুবা কোনভাবেই আপনি বায়ারের রিকোয়ারমেন্ট যেমন বুঝতে পারবেন না তেমনি কোন সমস্যাও তাকে বুঝিয়ে বলতে পারবেন না। ইংরেজিতে দূর্বলরা উপরের কথা পড়ে হয়ত ঘাবড়ে যেতে পারেন, তবে তাদের জন্য বলতে পারি, আপনাকে কিন্তু ইংরেজিতে পন্ডিত হতে হবে এমনটি নয়! ভাব বিনিময় এবং ব্যবসায়িক কাজগুলোর জন্য সাধারণত যে ইংরেজি ব্যবহৃত হয় সেটি জানলেই চলবে। যারা ইংরেজিতে দূর্বল তাদের এটি দূর করতে খুব বেশি যে সময় লাগবে এমনটি নয়, ২ থেকে ৩ মাস একটু চেষ্টা করলেই এ ধরণের ইংরেজি রপ্ত করা সম্ভব।

আপনাকে খুঁজে নিতে হবে কাজ, আর সেটি অবশ্যই আপনার দক্ষতার ভিত্তিতে। যে বিষয়ে আপনার দক্ষতা নেই সে বিষয়ে কোনভাবেই অ্যাপ্লাই করতে যাবেন না। তাহলে কাজ তো পাবেনই না, বরং আপনার রেপুটেশনও নষ্ট হতে পারে বায়ারদের কাছে। মার্কেটপ্লেসে নিবন্ধনের পরপরই ভালো একটা কাভার লেটার তৈরি করা উচিত, যা ক্লায়েন্টের কাছে কাজের আবেদনের সময় লাগবে, সাথে আগে সম্পন্ন করা উল্লেখযোগ্য কাজের লিস্ট বা একটি ভালো পোর্টফোলিও তৈরি করতে হবে। 

বায়ার কাজ দেয়ার ক্ষেত্রে মূলত এই পোর্টফোলিও বা কাজের অভিজ্ঞতা বিবেচনা করেন। কোনো মিথ্যার আশ্রয় না নিয়ে যে বিষয়ে দক্ষতা আছে সেটি ভালোভাবে তুলে ধরা উচিত। কোনো কাজ গ্রহণের আগে সেটির সময়সীমা, বাজেট ও সংশ্লিষ্ঠ অন্যান্য বিষয়গুলো ভালোভাবে জেনে নিতে হবে। আর ক্লায়েন্ট নির্বাচনের ক্ষেত্রে অবশ্যই সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। পারলে সেই ক্লায়েন্টের পূর্বের কোনো রিভিউ দেখে নেওয়া ভাল। কারণ অনেক সময় ক্লায়েন্ট প্রতারক হলে কাজটি করিয়ে প্রতারণা করতে পারেন। কাজে অ্যাপ্লাই করার পর বায়ার যদি আপনাকে যোগ্য মনে করে তবে ইন্টারভিউতে ডাকবে, সেখানে আপনি তার প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারলে নিশ্চিত কাজ পেয়ে গলেন! এবার বায়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রজেক্টের বিস্তারিত বুঝে নিন। এরপর সে অনুযায়ী কাজটিও শেষ করে ফেলুন। 

কাজের মাঝখানে প্রয়োজনে কোন তথ্য দরকার পড়লে বায়ারকে আবার নক করতে পারেন। আর হ্যাঁ, কাজ করার ক্ষেত্রে অবশ্যই ডেডলাইনের দিকে নজর রাখা জরু
রী। পারলে ডেডলাইনের আগে ভাগেই কাজটি শেষ করে বায়ারের কাছে জমা দেওয়া ভাল। এছাড়া ভাল রেটিং পাওয়ার জন্য কঠোর পরিশ্রম করার মানসিকতা রাখতে হবে। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় পরিমাণ কাজ করার মানসিকতা তৈরি করতে হবে। দ্রুত কাজের জন্য অবশ্যই অপেক্ষাকৃত ভালোমানের কম্পিউটার ও দ্রুতগতির ইন্টারনেট থাকতে হবে। 

দ্রুতগতির ইন্টারনেটের কথা যখন আসলো তখন, এই নিয়ে কিছু কথা বলি, ১৯৯৬ সাল ৬ জুন বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহার সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। তখন ভিস্যাটের মাধ্যমে ইন্টারনেটের সাথে যুক্ত হয়ে প্রতি এমবিপিএস ইন্টারনেটের জন্য খরচ হতো ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। ২০১৪, এপ্রিল এ তা হয় ২ হাজার ৮০০ টাকা। ২ হাজার ৮০০ টাকা হলেও গ্রাহক পর্যায়ে ইন্টারনেট ব্যবহার খরচ কমেনি। বাংলাদেশের এখন মোট ব্যান্ডউইডথ ২০০ গিগাবাইট পার সেকেন্ড (জিবিপিএস)। বর্তমানে মোট ব্যান্ডউইডথের মধ্যে ব্যবহার হচ্ছে ৩২ গিগা। গত দুই বছরে এর ব্যবহার বেড়েছে ১৭ গিগার মতো। আপনার আইএসপি, মোবাইল ইন্টারনেট কি আপনাকে কম মূল্যে এবং দ্রুত গতির ইন্টারনেট সার্ভিস দিচ্ছে কি? যদি আপনি দ্রুতগতির ইন্টারনেট না পান তাহলে কিভাবে ফ্রিল্যান্স এর আউটসোর্সিং করবেন / শুরু করবেন ?

একদিকে আমাদের যেখানে কর্মক্ষম লোকের অভাব নেই অপরদিকে বিশ্বব্যাপী আউটসোর্সিং শিল্পের কাজও অফুরন্ত এত সম্ভাবনার মাঝে আমরা আসলে কতটা প্রস্তুত? সত্যি কথা বলতে আমাদের প্রস্তুতি তেমন নেই বললেই চলে। নতুন ধারায় তরুণদের হাত ধরে উন্নতি যা হ‪চ্ছে তাও নষ্ট হ‪চ্ছে রাতারাতি বড়লোক হবার বাহারি ও রকমারি বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে মানুষকে আকৃষ্ট করার পায়তারায়। অনলাইনে আয় করার এইসব বাহারি বিজ্ঞাপনের বক্তব্য দেখলে মনে হয় যে অনলাইনে আয় করতে কিছুই জানতে হয় না, শুধু ইন্টারনেট ও কম্পিউটার থাকলেই হয়। 

কোন ধরনের সাহায্য ছাড়া আমাদের তরুণেরা যে শিল্পটা কেবল তৈরি করছে সেটা ধ্বংস করে দি‪চ্ছে এই সকল ফটকা ব্যবসায়ীরা। অবস্থা এমন যে অনেক ক্ষেত্রে নিজেকে ফ্রিল্যান্সার বা আউটসোর্সিং শিল্পের সাথে জড়িত এটা বলতে বিব্রত হতে হয়। এ ক্ষেত্রে এখন আমাদের নিজেদের প্রস্তুত করতে ভালোমানের যে প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলো আছে তাঁদেরকে পৃষ্ঠপোষকতা করা জরুরী। আর এক্ষেত্রে আরও অনেক প্রতিষ্ঠান যেন মানসম্মত প্রশিক্ষণ নিয়ে এগিয়ে আসে সে বিষয়টিও আমাদের মাথায় রাখা দরকার। ভালো মানের প্রশিক্ষণ ছাড়া ফ্রিল্যান্স আউটসোর্সিংয়ে তেমন উল্লেখযোগ্য কিছু করা সম্ভব নয়। 

এতক্ষণ যা কিছু লেখার মাধ্যমে বলার চেষ্টা করেছি তা বিভিন্ন সময় অভিজ্ঞদের পরামর্শ এবং নিজের কাজের অভিজ্ঞতা থেকে বলার চেষ্টা করেছি। তাদের পরামর্শ কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করছি। ব্যস্ত সময় থেকে ভবিষ্যতে সময় পেলে ফ্রিল্যান্স এর আউটসোর্সিং কাজের ক্ষেত্র নিয়ে আরো আলোচনা করার চেষ্টা করবো।

 

-
লেখক খন্ডকালিন প্রশিক্ষক, জাতীয় কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ও গবেষণা একাডেমী (নেকটার), বগুড়া; সহকারী-সম্পাদক, বগুড়া সংবাদ ডট কম; সহ-সভাপতি, বগুড়া ফটোগ্রাফিক এসোশিয়েশন


এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

freelance, freelancer, intelligent, work, hard, official, client, timeline, woman