সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

selfi-addiction.jpg

সেলফিপ্রীতি, আসক্ত হচ্ছেন নাকি আক্রান্ত?

হালের পাগলামি সেলফি নিয়ে অল্প কয়টা কথা। সেলফি তোলাটা আপনার নেশা হয়ে গেলে একটু লাগাম টানার কথা ভাবুন। নিজেকে নিয়ে সবসময় মেতে থাকার কৌশলে অভ্যস্ততা বাড়তে দেয়া আপনার জন্য ভালো নাও তো হতে পারে, তাইনা?

মনে করে দেখুন তো সেলফিযুগের আগের সেই সময়টা, খুব কি অসুবিধা ছিলো আপনার ছবি তোলা নিয়ে? মুখ বা শরীরের খানিকটা অংশসহ নিজেকে নিজের হাতে পিক্সেলে বন্দী করে যে মজা পাচ্ছেন, অন্য কেউ একজন আপনার ছবিটা তুলে দিলে সেই মজাটা পাচ্ছেন না? সব অনুষ্ঠানে অনেক মানুষের ভীড়েও বারবার সুযোগ খুঁজে নিচ্ছেন আপনি, আপনার সেলফিপর্বের জন্য। তবে কি এটা কেবলই আসক্তি? হতেই তো পারে যে আপনি কোন একটা সমস্যায় আক্রান্ত হয়েছেন!

সেলফি তোলা অবশ্যই খারাপ কিছু নয়। ছবিই তো, আপনি নিজেরটা নিজে তুলতেই পারেন। কখনো কখনো নিজের সাথে একার মুহূর্তগুলিকে ধরে রাখতে ইচ্ছে করতেই পারে। সেলফি আপনার সেই সময়ের একমাত্র উপায় হবে।

দলের সবার একসাথে ছবি লাগবে, অন্য কেউও পাশে নেই, তখন নিজেদেরই একজনকে ছবিটা তোলার ভার নিতে হয়। তো হোক সেলফি। বন্ধুদের আড্ডায়ও মজা করে নিজের কিছু সেলফি নিচ্ছেন আপনি। মাঝেমাঝে কাজটা মজাদার হতেই পারে, বা হতে পারে আপনার সময় কাটানোর ছোট্ট একটা খেলাও। কিন্তু সবসময় যেকোন পরিস্থিতিতে যখন আপনি সেলফি সেলফি করে পাগল হচ্ছেন, তখন কয়টা কথা ভেবে দেখার সামান্য প্রয়োজন হয়ে যায়।

আপনার যে ছবিটা আপনি নিজের হাতে তুলছেন, সেই একই ছবি আপনার মনমতো তুলে দিতে সাথের কেউ একজন অনেক বেশি সমর্থ। ক্লোজ এ্যাঙ্গেলে মুখের ছবি পেতেই সেলফি তোলেন তো? সেটাও অন্য একজন বেশ ভালো তুলে দিতে পারবে। যদি না অন্য কাউকে ছবি তুলতে দিয়ে ক্যামেরার সামনে আসতে আপনার অস্বস্তি বোধ হয়!

যখন বন্ধু বা ঘনিষ্ঠ মানুষদের নিয়ে কোন আয়োজনে অংশ নিয়ে আপনি একটু পরপরই সেলফি তোলায় ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন, বিশেষ করে আপনার একার সেলফি নিয়ে, সবার কাছে না হলেও কারো কারো কাছে বিষয়টা দৃষ্টিকটু লাগবেই। নিজের ছবি তোলাটা কখনো কারো প্যাশন হয়ে যেতে পারে, সেই ধারনাটাই যেখানে একটু অদ্ভুত ঠেকে সেখানে এই অভ্যাস প্যাশন থেকে অবসেশনে পৌঁছে গেলে তো একটা অদ্ভুতুড়ে বিষয় হয়ে দাঁড়ায়! 

অন্তত একটা কথা তো মাথায় রাখতেই পারেন, সেলফি শব্দটার উৎপত্তিই হয়েছে সেলফিশ থেকে। অবাক হবেন না, আপনাকে দিনেদিনে ভীষন রকমের আত্মকেন্দ্রিক বানিয়ে দিতে আপনার সাধের সেলফিপ্রীতি বড় ভূমিকা রাখতেই পারে।


এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

selfie, selfish, culture, photo, addiction, camera, style, odd, bad