সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

selfie-wedding-mocking.jpg

সোশ্যাল নেটওয়ার্ক একটি অতিবাস্তব বিয়ের দাওয়াত

আমার খুব ক্লান্ত লাগছিলো তাই ওদের থেকে বিদায় নিয়ে চলে আসলাম। আম্মু জিজ্ঞেস করলো, কিরে বিয়ে কেমন খেলি? আমি বললাম, কেমন খেয়েছি জানিনা তবে তুলেছি!

কিছুদিন আগে আমার কাছের এক বান্ধবীর বিয়ের দাওয়াত পেলাম। আমার বাসা দূরে থাকায় সে বিয়ের কার্ড স্ক্যান করে ভাইবারে পাঠিয়ে দিয়েছে। সে যাই হোক বিয়েতে যাবো অনেকের সাথে দেখা হবে এই ভেবে মনটা বেশ ভালো লাগছিলো। যেসব বন্ধুদের সাথে হয়তো সোশ্যাল নেটওয়ার্ক এর কল্যানেই এতোদিন দেখা হতো তাদের সামনাসামনি দেখা আর আড্ডার একটা সুযোগ হবে।

বন্ধুরা কারা কারা যাবে তা নিয়ে কথা বলতে স্মার্ট ফোনটা হাতে নিতেই দেখি ফেসবুকে আমার বান্ধবীর এর বিয়ের ইভেন্ট এর নোটিফিকেশন এসেছে। সেখানেই দলে দলে সবাই যোগদান করছে। কে কখন কিভাবে আসবে তার একটা চিত্র পেয়ে গেলাম। কাউকে আর কল দেয়া হলো না। 

তারপর যথাদিনে যথাসময়ে বান্ধবীর বিয়েতে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হলাম। কমিউনিটি সেন্টারের গেটের কাছে পৌঁছতেই দেখলাম বেশ ভিড়। গেটটা খুব সুন্দর কিছু ফুল, মরিচ বাতি দিয়ে সাজানো। অতিথিরা দুটি লাইনে সারিবদ্ধ হয়ে এগুচ্ছে। আর একটু ভিতরে যেতেই ব্যাপারটা পরিষ্কার হলো। সুন্দর সাজানো গেটের সামনে অতিথিদের ছবি তুলে দেয়ার জন্য দু'জন ক্যামেরাম্যান সেখানে আছে। একটি সারিতে তোলা হচ্ছে গ্রুপ ফটো আর একটিতে সিংগেল ফটো। অতঃপর আমিও লাইন ধরে একটা সিংগেল ছবি তুলে ফেললাম। 

তারপর বান্ধবীর জন্য আনা উপহারটা নির্দিষ্ট জায়গায় জমা দিতেই আমাকে নম্বর লেখা একটা টোকেন দিলো। ব্যাপারটা বোঝার চেষ্টা করছিলাম। তখন টোকেন দাতাই বুঝিয়ে বললো যে এই টোকেন দিয়ে সিরিয়াল ধরে কনের সাথে ছবি তুলতে হবে। টোকেন সিস্টেম থাকলে নাকি ঝামেলা হয় না। সবাই নির্বিঘ্নে ছবি তুলতে পারে। তা না হলে সবাই ছবি তুলতে চায়, কে আগে তুলবে কে পরে এই নিয়ে নাকি খুব বিব্রতকর অবস্থা হয়। আর বরপক্ষ চলে আসলে তো কথাই নেই। 

ম্যাম, এটা হলো স্মার্ট ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট এর স্মার্ট আইডিয়া - বলেই সে অন্য গেস্টদের টোকেন দিতে ব্যস্ত হয়ে গেলো। আমি শুধু উপরে নিচে মাথা নেড়ে টোকেন হাতে স্টেজের দিকে রওনা দিলাম। 

আমার কনে বান্ধবীর সাথে দেখা শেষ করে পরিচিত মুখদের খুজছিলাম। হটাত এক বন্ধুকে দেখলাম তড়িঘড়ি করে স্টেজের দিকে যাচ্ছে। ওকে ধরে অন্যদের কথা জানতে চাইলাম। বললো, দেরি করে আসায় তারা এখনো কনের সাথে ছবি তুলতে পারেনি তাই লাইনে আছে। আর কয়েকজন মিলে গেছে সেল্ফি বুথে। সেল্ফি বুথ ব্যাপারটা দেখার কৌতুহল সামলাতে পারলাম না। খুঁজে খুঁজে পেয়েও গেলাম। একটা কর্নারে সেল্ফি স্টিক রাখা। পেছনে জমকালো একটা ব্যাকগ্রাউন্ড। তার সামনেই দেখি আমার বন্ধুরা সেল্ফি তুলছে। আমাকেও ডাকলো। ওদের সাথে কোনরকমে আমার মুখটা বের করে সেল্ফি তুললাম।

বন্ধুদের সাথে কথা বলবো কিন্তু সবাই দেখলাম সেল্ফি আপ্লোড করতে ব্যস্ত। যাহোক, যারা সেল্ফিতে ছিলো সবাই একসাথে খেতে বসলাম। আমার পাশের বান্ধবী আমাকে বললো আমি যেন ওর ছবিতে লাইক দেই। আমি মাথা নাড়লাম। এদিকে আমার খাওয়া শেষ হয়ে যাচ্ছে কিন্তু খাওয়ার টেবিলের সাথে ওদের ছবি তোলা শেষ হচ্ছেনা। একজন আবার জর্দার প্লেটে আরো গুটি মিস্টি নিয়ে আসতে বললো, তাহলে নাকি খাবারের ছবি সুন্দর আসবে।

আমার খুব ক্লান্ত লাগছিলো তাই ওদের থেকে বিদায় নিয়ে চলে আসলাম। আম্মু জিজ্ঞেস করলো, কিরে বিয়ে কেমন খেলি? আমি বললাম, কেমন খেয়েছি জানিনা তবে তুলেছি!

এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

internet, wedding, social, network, selfie, funny, trend, modern, like, bad