সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

cinema-shooting-location.jpg

সিনেমার লোকেশন লোকেশন রেকি: যে বিষয়গুলো অবশ্যই বিবেচনা করবেন

বাস্তবে কেমন লোকেশন চাই, সেটা স্ক্রিপ্ট পড়েই বুঝে ফেলতে হবে। আপনি যত নিখুঁত কল্পনায় ছবিটা দেখতে পারবেন, তত উপযোগী লোকেশন খুঁজে বের করতে পারবেন। কল্পনা শক্তির এই চর্চাটা আপনাকে এগিয়ে দেবে।

একটা সিনেমা বানাতে যাচ্ছেন। সিনেমাটির শুটিং শুরু হবে শীঘ্রই। তার জন্য লোকেশন প্রয়োজন। সিনেমার লোকেশন দেখার আগে প্রস্তুতি, লোকেশন দেখা এবং নির্বাচন করার পদ্ধতি নিয়ে এই আলোচনা।

প্রথমেই বলে নেয়া ভালো, এই লেখাটি আমি একজন সহকারী পরিচালকের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে লিখেছি। আমাদের দেশে লোকেশন রেকি করার দায়িত্ব সহকারী পরিচালকদের পালন করতে হয়। আপনি যদি সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করতে চান, তাহলে অবশ্যই এই লেখাটি পড়া উচিত। হতেও পারে, আপনার কাঁধে চেপে বসতে পারে লোকেশন রেকি করার দায়িত্ব। 

এই লেখাটিকে আমি তিনটি ভাগে ভাগ করেছি - লোকেশন দেখার আগে, লোকেশন দেখার সময় ও শুটিং চলাকালীন সময়। এই তিনটি ভাগের মধ্যে দ্বিতীয় ভাগটা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ওই অংশে বেশির ভাগ কথা বলা হয়েছে। এবার শুরু করা যাক আলোচনা :

ক. লোকেশন দেখার আগে
স্ক্রিপ্ট পড়েন আগে: সবার আগে সিনেমার স্ক্রিপ্টটি ভালোভাবে পড়ুন। এই পড়া মানে হল  - ভিজুয়াল রিডিং। মানে হল, কল্পনার চোখ মেলে দৃশ্য দেখে এবং কল্পনার কান খুলে শব্দ শুনতে শুনতে স্ক্রিপ্টটা পড়ে যান। স্ক্রিপ্টটা পড়ে যেই ছবি মনের আয়নায় ভেসে ওঠে, সেই ছবিটা বাস্তবে কোন লোকেশনে পাওয়া যেতে পারে, ভেবে ভেবে বের করুন। বাস্তবে কেমন লোকেশন চাই, সেটা স্ক্রিপ্ট পড়েই বুঝে ফেলতে হবে। আপনি যত নিখুঁত কল্পনায় ছবিটা দেখতে পারবেন, তত উপযোগী লোকেশন খুঁজে বের করতে পারবেন। কল্পনা শক্তির এই চর্চাটা আপনাকে এগিয়ে দেবে।

সম্ভাব্য লোকেশনের জন্য যোগাযোগ: সিনেমার লোকেশন সম্পর্কে খোঁজ-খবর রাখেন, এমন লোকজনকে খুঁজে বের করতে হবে। বিভিন্ন জেলায় কিছু লোকজন আছেন, যারা আগে কোন সিনেমায় কাজ করেছেন, সিনেমার লোকেশন সম্পর্কে যারা জানেন, এই রকম লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। এদের সঙ্গে যোগাযোগ করে আপনার কল্পনায় দেখা সেই লোকেশনের বিস্তারিত বর্ণনা দেন। দেখবেন, তারা আপনাকে খুব সহজেই কাঙ্খিত লোকেশন খুঁজে বের করে দেবে।

খ. লোকেশন দেখার সময়
সম্ভাব্য লোকেশনের সংবাদ পেয়ে গেছেন। এবার যাবেন লোকেশন রেকিতে। কমপক্ষে ২ জন যাবেন। একজন গেলে লোকজন আপনাকে পাত্তা দিবে না। বিশ্বাসই করবে না, আপনি সিনেমার লোকেশন দেখতে এসেছেন। 

যা সঙ্গে নিতে হবে: 
ডিজিটাল ক্যামেরা - যে কোন সাধারণ মানের একটা ডিজিটাল ক্যামেরা সঙ্গে নিতে হবে। কারণ লোকেশন দেখার সময় আপনাকে লোকেশনের ছবি তুলে ফেলতে হবে। প্রচুর ছবি তুলবেন। একই জায়গার ছবি বিভিন্ন ক্যামেরা দূরত্ব  ও ক্যামেরা কোণ থেকে তুলবেন। যেই দৃশ্যটির জন্য এই লোকেশন দেখছেন, সেই দৃশ্যের সম্ভাব্য শটগুলো ভেবে নিয়ে ছবি তুলতে পারেন। যদি মনে করেন, লোকেশনের কিছু ভিডিও করতে পারেন। স্টিল ছবি ও ভিডিও লোকেশন সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে।

নোট বুক - যেই এলাকায় লোকেশন দেখছেন, সেই এলাকার মানুষের সঙ্গে কথা বলুন। লোকেশনের মালিকের সঙ্গে বিস্তারিত কথা বলুন। যাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে এই লোকেশন ব্যাবহারের অনুমতি পাওয়া যাবে, তাদের নাম, ঠিকানা ও ফোন নাম্বার লিখে নিন। অন্য কোন তথ্য থাকলে সেটাও লিখে নিন। এই জন্যই একটা নোট বুক সব সময় সঙ্গে রাখুন। আরেকটা কথা, প্রয়োজনীয় কোন তথ্য মনে রাখার চেষ্টা করবেন না। ধরেই নেবেন, আপনি ভুলে যাবেন। সুতরাং সব প্রয়োজনীয় তথ্য লিখে রাখুন। মাথা থেকে তথ্য হারায়, খাতা থেকে হারায় না।

ল্যাপটপ - লোকেশনের প্রচুর ছবি তুলেছেন। ক্যামেরায় রেখে দিলে চলবে না। সঙ্গে একটা ল্যাপটপ থাকলে দুটি লাভ। প্রথমত এসডি কার্ড ভরে গেলে ছবি ল্যাপটপে রাখতে পারবেন। অন্য দিকে প্রতিদিন তোলা ছবি তাৎক্ষণিকভাবে আপনার ফিল্মমেকিং টিমের অন্য সদস্যদের সঙ্গে ই-মেইলে শেয়ার করতে পারবেন। বিশেষত আপনার পরিচালকের কাছে ই-মেইলে ছবি পাঠান। উনি খুব সহজে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।

ছাতা - অবশ্যই সঙ্গে নেবেন। এটা রোদ এবং বৃষ্টি থেকে আপনাকে রক্ষা করবে।

প্রয়োজনীয় ব্যাগ বা লাগেজ - কত বড় ব্যাগ বা লাগেজ আপনি নেবেন, সেটা নির্ভর করে কত দূরে আপনি যাচ্ছেন এবং কত দিনের জন্য যাচ্ছেন। ব্যাগ বা লাগেজের সাইজ আপনার তাৎক্ষণিক প্রয়োজনের উপর নির্ভর করে।

সৌন্দর্যবোধ ও সৌন্দর্য:
সিনেমার একটা শটের সৌন্দর্য না থাকলে সেই শট দর্শককে মুগ্ধ করতে পারবে না। লোকেশন সুন্দর না হলে শট সুন্দর হবে না। এ জন্য লোকেশন দেখার সময় প্রথম মাথায় রাখুন সৌন্দর্য। আপনার কল্পনার সেই সুন্দর লোকেশনটা খুঁজে বের করার চেষ্টা করুন। যেই লোকেশন সুন্দর, সেই লোকেশনকে গুরুত্ব দিন। অথবা একটা লোকেশন থেকে সৌন্দর্য খুঁজে বের করুন। সেই সৌন্দর্যের ছবি তুলে ফেলুন। আপনার সৌন্দর্যবোধকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিন।

পাওয়ার সাপ্লাই:
শুটিং লোকেশনে পাওয়ার সাপ্লাই আছে কি না সেটা দেখে নেয়া দরকার। অবশ্য পাওয়ার সাপ্লাই থাকুক বা না থাকুক এখন কোন ক্ষেত্রে লোকেশন থেকে পাওয়ার নেয়া হয় না। জেনারেটর ব্যবহার করা হয়। যদি সিনেমার জন্য লোকেশন দেখেন, তবে পাওয়ার সাপ্লাই নিয়ে না ভাবলেও চলবে। কিন্তু নাটকের জন্য লোকেশন দেখলে পাওয়ার সাপ্লাই বিষয়টা মাথায় রাখতে হবে।

যোগাযোগ ব্যবস্থা :
লোকেশনে যাওয়া আসার জন্য ভালো যোগাযোগ ব্যবস্থা জরুরী। বিশেষত ক্যামেরা, লাইট, জেনারেটর ও বিশেষ কোন সেট পৌছানোর জন্য গাড়ি যাতায়াত করতে পারে, এমন রাস্তা থাকাটা জরুরী। রাস্তা ভালো না হলে সেই লোকেশনে কাজ করা সম্ভব না। সুতরাং যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না, এমন কোন লোকেশন দেখবেন না।

পার্কিং ব্যবস্থা :
যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো। কিন্তু এমন গিঞ্জি এলাকা যে, গাড়ি রাখার জায়গা নাই। অথবা লোকেশন যেমনই হোক, গাড়ি রাখার কোন ব্যবস্থা নাই। সেক্ষেত্রে ওই লোকেশনে গাড়ি রাখার ব্যবস্থা করতে হবে অথবা সেই লোকেশন বাদ দিতে হবে।

শব্দ নিয়ন্ত্রণ :
এমন লোকেশন না বাছাই ভালো, যেখানে প্রচুর শব্দ বা নয়েজ। শুটিং করার জন্য নীরব লোকেশন ভালো। সিনেমার ক্ষেত্রে ডাবিং হলেও নাটকের ক্ষেত্রে ডাবিং হয় না। এমন লোকেশন কখনও বাছাই করবেন না, যেখানে প্রচুর শব্দের কারণে পরিচালকের একশন-কাট শোনা যাবে না।

মেক আপ ও কস্টিউম :
লোকেশনে দুটি কাজ অভিনয় শিল্পীদের করতে হবে। মেকআপ নিতে হবে এবং কস্টিউম পরতে হবে। সুতরাং লোকেশনে এমন দুটি ঘর আপনাকে খুজে বের করতে হবে, যেখানে অভিনয় শিল্পীরা মেকআপ নিতে পারবে এবং পোশাক পরিবর্তন করতে পারবে। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

ভালো বাথরুম :
এটার গুরুত্ব কি বলার দরকার আছে? অনেক নামী দামী অভিনয় শিল্পী এই সমস্যার জন্য দূরে কোন লোকেশনে কাজ করতে চায় না। অনেকের ব্যাক পেইন থাকার জন্য হাই কমোড ছাড়া ’ত্যাগেই সুখ’ করতে পারে না। সুতরাং লোকেশনে ভালো বাথরুম থাকাটা খুব জরুরী।

থাকা খাওয়ার সুবিধা :
লম্বা সময় ধরে শুটিং হলে এটা প্রথম চাহিদা হবে। কাজ করার পর পেট ভরে খেতে না পারলে অভিনয় শিল্পী ও কলাকুশলীরা খুবই বিরক্ত হয়। ভালো খাবার দাবার না থাকলে ইউনিটের সবাই বিরক্ত হবে। তাছাড়া সারা দিন হাড় ভাঙ্গা পরিশ্রমের পর রাতের ঘুমের জন্য একটা ভালো বিছানা দরকার। যদি সেটা না পাওয়া যায়, ইউনিটের সবাই বিরক্ত হবে এবং পরের দিন কাজের ক্ষেত্রে তার বাজে প্রভাব পড়বে। তাই লোকেশন দেখার সময় থাকা-খাওয়ার সুবিধা খেয়াল রাখতে হবে। লোকেশনের আশেপাশে থাকা আবাসিক হোটেলগুলোতে ঢু মারতে হবে।

নিরাপত্তা :
খুবই দরকারী বিষয়। নিরাপত্তার জন্য কোন কোন শুটিং ইউনিট ’নিরাপত্তা কর্মী’ সঙ্গে করে নিয়ে যায়। যে এলাকায় লোকেশন দেখবেন, সেই এলাকার মানুষজনের সঙ্গে কথা বলুন। এলাকার আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি কেমন জানতে চেষ্টা করুন। তাছাড়া সংশ্লিষ্ট থানায় যোগাযোগ করে কথা বলতে পারেন। যে এলাকার আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো না, সেখানে লোকেশন দেখার মতো বোকামি আর নাই। 

স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ : 
লোকেশন দেখার সময় স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলুন। কথা বলে নিশ্চিত হউন যে, ওই এলাকায় শুটিং করলে স্থানীয় লোকজন গ্যাঞ্জাম করবে না। প্রয়োজন বোধে স্থানীয় প্রভাবশালী লোকজন যেমন চেয়ারম্যান, মেম্বার, মাতব্বর শ্রেণীর লোকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। খোঁজ নেয়ার চেষ্টা করুন, শুটিং করার ব্যাপারে কারো কোন আপত্তি আছে কি না। যদি শুটিং এর সময় কোন গ্যাঞ্জাম তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তবে লোকেশন বাদ দিতে পারেন।

তবে আরেকটা কথা, এমনও হয়, প্রভাবশালী কারো ছত্রচ্ছায়ায় আপনি শুটিং করতে গেছেন, সেই প্রভাবশালী আপনার কাছ থেকে টাকা খাওয়ার জন্য একটা গ্যাঞ্জাম তৈরি করবে। তার ইশারায় স্থানীয় কিছু টাউট বাটপার এসে শুটিংএ বাধা দেবে। সেই প্রভাবশালী তখন সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়ে আপনার কাছ থেকে নগদ টাকা আদায় করবে। এই ধরনের ফাঁদে পা দেবেন না।

লোকেশন ব্যবহারের অনুমতি :
আমাদের দেশে এই চর্চাটা নাই। হলিউডে লোকেশন ব্যবহারের জন্য প্রযোজনা সংস্থার সঙ্গে লোকেশনের মালিকের লিখিত চুক্তি হয়। বিনা টাকায় লোকেশন ব্যবহার করে না তারা। আমাদের দেশে লোকেশন ব্যবহার করা হয় বিনা টাকায়। তাই লোকেশন ব্যবহারের জন্য মৌখিক অনুমতি নেয় সবাই। কিন্তু লোকেশন মালিক ধূর্ত প্রকৃতির হলে স্থানীয় টাউট বাটপার দিয়ে গ্যাঞ্জাম পাকিয়ে ঠিকই টাকা বা চাদা আদায় করে নেয়। সুতরাং লোকেশন ব্যবহারের জন্য লিখিত চুক্তি না করলে একটা ঝুকি থেকেই যায়। পারলে লোকেশন ব্যবহারের জন্য লিখিত চুক্তি করে নেবেন। তবে পেশাদার শুটিং হাউজে বা লোকেশনে শুটিং করলে আপনি লোকেশন ভাড়া পরিশোধ করলে কোন সমস্যায় পড়বেন না।

স্ক্রিপ্ট লোকেশন বনাম শুটিং লোকেশন :
স্ক্রিপ্টে প্রতিটি দৃশ্যে স্থান লেখা থাকে। স্থানটির একটা নাম দেয়া থাকে। এটাই স্ক্রিপ্ট লোকেশন। স্ক্রিপ্টে লেখা এই স্থানটি বাস্তবে খুঁজে পেতে হবে। বাস্তবে এই জায়গাটির নাম ভিন্ন হওয়াটাই স্বাভাবিক। স্ক্রিপ্টের কোন লোকেশন বাস্তবের কোন লোকেশনে নির্ধারিত হল সেটার একটা তালিকা করতে হবে।

টোটাল লোকেশন লিস্ট :
একটা টেবিল তৈরি করে নিন। কেবল শুটিং লোকেশন লেখা কলামটা খালি রাখবেন। পরে লোকেশন পছন্দ হওয়ার পর এই কলামটা পূরণ করে নেবেন। দেখবেন, আপনার সমস্ত লোকেশনের একটা সুন্দর তালিকা হয়ে যাবে। এই তালিকাটা আপনাকে কাজ করতে আরাম দেবে।

ফাইনাল রেকি :
সহকারী পরিচালক হিসেবে আপনি লোকেশন দেখেছেন। লোকেশনের ছবি তুলেছেন। আপনার পরিচালক আপনার তোলা ছবি দেখে সম্ভাব্য লোকেশন পছন্দ করেছেন। আপনি টোটাল লোকেশন লিস্ট তৈরি করেছেন। এটাই কি শেষ? না, এবার হবে ফাইনাল রেকি। ফাইনাল রেকিতে সম্ভাব্য নির্বাচিত লোকেশন দেখতে যাবেন স্বয়ং পরিচালক। সঙ্গে যাবেন, ডিওপি এবং আর্ট ডিরেক্টর। চিফ সহকারী পরিচালকসহ সব সহকারী যাবেন। স্বয়ং পরিচালক সরেজমিনে লোকেশন দেখে পছন্দ করলে আপনার লোকেশন রেকি আপাতত শেষ হবে। তবে পরিচালক সরেজমিনে লোকেশন পছন্দ না করলে আপনাকে আবারও নতুন করে লোকেশন রেকি করতে হবে।

গ. শুটিং চলাকালীন সময়
লোকেশন দেখার সময় সব কিছু ঠিকভাবে করে এলে শুটিং চলাকালীন সময়ে লোকেশন নিয়ে কোন গ্যাঞ্জাম তৈরি হবে না। তবে শুটিং চলাকালীন সময়ে কিছু বিষয় খেয়াল রাখতে হবে। এমন হতে পারে, পরিচালক হঠাৎ করে কোন একটা লোকেশন বাদ দিতে পারেন। শুটিং চলাকালীন সময়ে কোন একটা শটের জন্য নতুন লোকেশন খোজ করতে হতে পারে।

নতুন লোকেশনের ক্ষেত্রে কয়েকটা বিষয় খেয়াল রাখতে হবে :
মেকআপ ও কস্টিউম - যেখানেই লোকেশন বাছেন না কেন, মেকআপ করার জন্য একটা রুম খুঁজে বের করতে হবে। পাশাপাশি অভিনয় শিল্পীদের পোশাক পরিবর্তনের জন্যও একটা রুম লাগবে। লোকেশনের আশেপাশে কোন বাড়ির লোকজনকে ম্যানেজ করে সহজেই দুটি রুম পেয়ে যাবেন। পারলে একটু ভালো একটা বাড়ি বাছাই করেন।

ভালো বাথরুম - এটাও সেই বাড়িতে পাবেন, যেখানে মেকআপ ও কস্টিউমের জন্য রুম বেছেন। গ্রামে গঞ্জে হাই কমোড পাওয়ার সমস্যা হলে কিছু করার নাই।

মোটামুটি আলোচনা শেষ। একটা পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমায় সহকারী পরিচালক হিসেবে লোকেশন দেখার অভিজ্ঞতার আলোকে লেখাটি তৈরি। এটা আমার সীমাবদ্ধ জ্ঞানের একটা লেখা। নিশ্চয়ই এর চেয়ে ভালো কিছু লেখা সম্ভব। হয়তো অদূর ভবিষ্যতে কেউ সেই লেখাটা লিখবেন। ধন্যবাদ।

লেখক, চিত্রনাট্যকার ও চলচ্চিত্র কর্মী।

এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

সিনেমা, রেকি, লোকেশন, পরিচালক, বৃত্তান্ত, স্ক্রিপ্ট, অভিনয়, আয়োজন, অভিজ্ঞতা, চলচ্চিত্র, প্রকৃতি