সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

techies.jpg

আইন জনজীবনে ভোগান্তির কারন যখন ফুটপাথে মটরসাইকেল

২০১২ সালে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ ফুটপাতে মোটরসাইকেল চালানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন। সেই সাথে নগরবাসীর স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করতে ফুটপাতে মোটরসাইকেল চালালে দায়ী চালকদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে পুলিশের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন।

পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচলের জন্য নগরীর রাস্তার দুপাশে পর্যাপ্ত ফুটপাত থাকা আধুনিক নগরজীবনের অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি বৈশিষ্ট্য।

ফুটপাত মানে নির্বিঘ্নে পায়ে হেঁটে চলার পথ।  ফুটপাতে চলাচলের সময় কোন  ধরনের  প্রতিবন্ধকতা কোনভাবেই কাম্য নয়। 
অথচ আমাদের রাজধানী ঢাকা'র রাস্তার দু'পাশে যে ফুটপাত রয়েছে তা প্রয়োজনের তুলনায় অতি সামান্য। আবার যেটুকু ফুটপাত রয়েছে তার  অধিকাংশই  জনসাধারনের নির্বিঘ্নে চলাচলের অনুপযোগী।

দৈনন্দিন নানা প্রয়োজনে সাধারণ নগরবাসীরা ফুটপাত ব্যবহার করলেও এক্ষেত্রে তারা প্রতিনিয়ত নানা প্রতিবন্ধকতার শিকার হন। দৃষ্টান্ত হিসেবে আমরা বলতে পারি , মহামান্য হাইকোর্টের সুস্পষ্ট নির্দেশ অমান্য  এবং সিটি কর্পোরেশনের  নিয়ম নীতির কোনরকম  তোয়াক্কা না করে যত্রতত্র ফুটপাত দখল করে ছোট ছোট দোকান সাজিয়ে বসা এবং ফুটপাতে মোটরসাইকেল চালিয়ে জনসাধারনের স্বাভাবিক চলাচলে প্রতিনিয়ত বাধার সৃষ্টি করা।  

ফুটপাতে মোটরসাইকেল চালানো যে একটি দণ্ডনীয় অপরাধ তা আমাদের সবারই জানা। ২০১২ সালে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ ফুটপাতে মোটরসাইকেল চালানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন। 

সেই সাথে নগরবাসীর স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করতে ফুটপাতে মোটরসাইকেল চালালে দায়ী চালকদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে পুলিশের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন। মহামান্য হাইকোর্টের সুস্পষ্ট নির্দেশ অমান্য করে ফুটপাতে  মোটরসাইকেল চালানো স্পষ্টতই আদালত অবমাননার শামিল।

মোটরযান অধ্যাদেশ এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অ্যাক্ট  অনুযায়ী-রাস্তায় বা জনগণের চলার জায়গায় কোন ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা যাবে না। যদি কেউ কোনভাবে জনগণের স্বাভাবিক চলার পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে তবে আইন অনুযায়ী শাস্তির বিধান রয়েছে। সেটি হতে পারে জেল অথবা আর্থিক জরিমানা অথবা জেল ও জরিমানা উভয়ই। 

কিন্তু অতীব কষ্টের বিষয় হলো,ফুটপাতে মোটরসাইকেল চালানোর বিষয়ে উচ্চ আদালতের সুস্পষ্ট নির্দেশনা এবং মহানগর পুলিশ আইনে শাস্তির বিধান থাকলেও বাস্তবে তা কার্যকর হচ্ছে কি? প্রতিদিন রাস্তায় বের হলেই দেখা যায়, সারি সারি মোটরসাইকেল ফুটপাত দিয়ে বীরদর্পে এগিয়ে চলছে যা  সাধারণ পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচলে মারাত্মক ব্যাঘাত সৃষ্টি করছে। 

কোন কোন পথচারী  অসাবধানতাবশত  দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। এমনকি নগরীর আইন শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশের চোখের সামনেই ঘটছে আদালতের নির্দেশ অমান্য করার মত ঘটনা। 

একদিকে  মোটরসাইকেল চালক যেমন উচ্চ আদালতের নির্দেশ অমান্য করে ফুটপাতে মোটরসাইকেল চালাচ্ছেন, সাধারণ পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছেন। অন্যদিকে দায়ী মোটরসাইকেল চালকের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতের  নির্দেশ অনুযায়ী তাৎক্ষণিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করে পুলিশও কি আদালত অবমাননা করছেন না?

রাষ্ট্রীয় আইনের যথাযথ প্রয়োগ না হলে  ধীরে ধীরে অপরাধ বাড়তে থাকে এবং আইনের প্রতি সাধারণ জনগণের আস্থা ও শ্রদ্ধাবোধ  হারিয়ে যায়। কাজেই অপরাধী যেই হোক তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী  কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা একান্ত জরুরী। 

পুলিশের দোষ দিয়েই বা কি হবে! আমরা জনগন যদি সচেতন না হই, রাষ্ট্রীয় আইনের প্রতি যদি আমাদের ন্যূনতম শ্রদ্ধাবোধ না থাকে তবে পুলিশের একার পক্ষে সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।   

কাজেই আমাদের প্রত্যকের উচিত রাষ্ট্রীয় আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া এবং যার যার অবস্থান থেকে নিজেদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন হওয়া। পুলিশ ও জনগণ সকলের  সহযোগিতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে একটি সুশৃঙ্খল ও সুন্দর নগরী গড়ে তোলাই হোক আমাদের অঙ্গীকার।


এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

জনজীবন, মোটরসাইকেল, আইন, নিয়ম-ভাঙা, ফুটপাথ