সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

black.jpg

অধিকার টোকাইদেরও আছে বাঁচার অধিকার

এসব শিশুরা সাধারণত দারিদ্র, দাম্পত্য-কলহ, বিবাহ-বিচ্ছেদ, পরিবার থেকে পলায়ন ও যৌন নিপীড়নের কারণেই রাস্তায় নিক্ষিপ্ত হয়। কেউ তাদের দেখার কেউ নেই। রাষ্ট্রও এ ব্যাপারে উদাসীন।

সামাজিকভাবে এদেশের শিশুদের মধ্যে বিভিন্ন বৈষম্য লক্ষ্য করা  যায়। কেউ ধনী বাবা-মায়ের সন্তান, কেউ মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান কেউবা আবার গরীব পরিবারের সন্তান হিসেবে চিহ্নিত হয়ে বড় হতে থাকে। এতে করে শিশুমনে ভীষণ দাগ কাটে। 

আবার কিছু কিছু শিশু সমাজে দেখতে পাওয়া যায়, যাদের জীবন একেবারে বিষন্নতায় ভরপুর। জীবনে বড় হওয়ায় স্বপ্ন তাদেরকে কুঁড়ে কুঁড়ে খায় প্রতিনিয়ত। স্বপ্ন তাদের স্বপ্নই থেকে যায়, বাস্তবে এই স্বপ্ন কোনোদিন রূপ নেয় না। তারা পথের মাঝে তাদের নিজস্ব ঠিকানা খুঁজে নেয়। এইসব শিশুদেরকে পথশিশু বা টোকাই নামে আমরা চিনে থাকি। 

এই দেশের টোকাইরা শুধুমাত্র শিক্ষা ক্ষেত্রে নয়, শিক্ষার পাশাপাশি স্বাস্থ্য, চিকিৎসা, নিরাপদ আবাসস্থল, পুষ্টিসহ সকল ক্ষেত্রেই তারা বঞ্চিত। এছাড়া বাল্যবিবাহ, অল্প বয়সে মাতৃত্ব গ্রহণ, মানসিক ও যৌন হয়রানি, অশ্লীল ইভটিজিং,শিশু শ্রমিক হিসেবে কাজ করানোর পর পারিশ্রমিক না দেয়া কিংবা অল্প পারিশ্রমিক দেয়া প্রভৃতি বিষয় আজ কপালের লিখন হিসেবেই ধরে নিয়েছে তারা। 

এর ফলে এই সমাজের মানুষের প্রতি তাদের এক ধরনের ক্ষোভ জন্ম নেয়, এর ফলশ্রুতিতে অল্প বয়সেই তারা বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজে নিজেদের ঠেলে দেয়। গ্রামের ছেলেরা তবু বাড়ির আঙিনায় খেলাধুলা করে। কিন্তু শহরের এসব অবহেলিত টোকাইদের এসব ইচ্ছা শুধুই মরীচিকা। 

আমাদের দেশে পথশিশুদের ভাল-মন্দ দেখার যেন কেউ নেই। টোকাই নামে পরিচিত বলেই তারা যেন আজ সকলের ঘৃনার পাত্র হয়ে গেছে। রাস্তাঘাটেই যেন এদের ঠিকানা। বেশিরভাগ টোকাইদের পিতা-মাতা কে তা তারা জন্মের পরেও জানতে পারে না। অনেক সময় তাদের পিতা-মাতা থাকলেও তাদের পরিচয় পাওয়া যায় না। 

আসলে তাদের রাস্তায় জন্ম হয়, রাস্তায় জীবন কাটে এবং অবশেষে রাস্তায় তাদের মৃত্যু হয়। অনেকের পিতা-মাতা আছে কিন্তু যোগাযোগ নেই। এসব শিশুরা সাধারণত দারিদ্র, দাম্পত্য-কলহ, বিবাহ-বিচ্ছেদ, পরিবার থেকে পলায়ন ও যৌন নিপীড়নের কারণেই রাস্তায় নিক্ষিপ্ত হয়। 

কেউ তাদের দেখার কেউ নেই ।রাষ্ট্রও এব্যাপারে উদাসীন। অথচ দেশের এক শ্রেণীর সংস্থা বিশেষ করে এনজিও গুলো তাদের নাম বেচে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে তারপরও সেমিনার, সভা-সমিতি, পথযাত্রায় ইত্যাদি করে বড় বড় বুলি আওড়াতে দেখা যায় যে, শিশুদের জন্য অনেক কিছু করা হচ্ছে।

তাদের আর্থিক, মানসিক, শারীরিক, সামাজিক, রাষ্ট্রীয় ইত্যাদি বিষয়ে তাদের যথোপযুক্ত নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করার কথা শুনা যায়। কিন্তু বাস্তবে চিত্র ভিন্ন। 

অথচ তাদের জীবনমান উন্নয়নে করার জন্য বিদেশ থেকে অনেক টাকা ঋণ এনে তাদেরকে পুনর্বাসন করার নামে বিভিন্ন সেমিনার, লোকদেখানো কর্মশালার আয়োজন করার নামে যে অর্থ ব্যয় করা হয় সে অর্থও যদি তাদের মধ্যে সঠিকভাবে বিতরণ করা হতো, তাহলে তারা কিছুটা হলেও মানবেতর জীবনযাপন থেকে মুক্তি পেত।

তাহলে তারা রেল স্টেশন, বাস টার্মিনাল, অফিস চত্বর, পার্ক, রাস্তার ধারে ও খোলা আকাশের নিচে বাস করতে হতো না। আসুন না এদেশের সুবিধা বঞ্চিত টোকাইদের জন্য কিছু একটা করি, তারাও যে আমাদের এই সমাজেরই অংশ। 

আমি, আপনি এবং আমরা মিলে তাদের এই ছন্নছাড়া জীবন থেকে মুক্তি দিতে এগিয়ে আসি। তাদের দেখ- ভালের কারনেই সমাজ থেকে অপরাধ প্রবনতা অনেকাংশে কমে যেতে পারে  সবাই টোকাইদের ভালবাসার দৃষ্টিতে দেখি। 

ছবি সুত্রঃ ইন্টারনেট


এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

সমাজ, টোকাই, অধিকার, বঞ্চিত, করুনা, মানবতা